PSB 3RD ANNIVERSARY CEBEBRATION 2022

BANGLA BLUES 2021 AWARD GIVING CEREMONY 

ফিলাটেলিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ(PSB) তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে Muhammad Akbar Husain ভাই ও হাসান খুরশীদ রুমী ভাইয়ের নেতৃত্বে একটানা ফিলাটোলিক অয়ার্কশপ, আন্তর্জাতিক অনলাইন এক্সিবিশন, ফিলাটেলিক এস্কারশন, বিওপি’এর সহায়তায় বিশেষ খাম উন্মোচন ও অন্যান্য সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মকান্ড করে আসছে। তাদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগগুলো ইতোমধ্যে ফিলাটেলিক বোদ্ধাদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে পিএসবি প্রধান অতিথি নিবার্চনে মন্ত্রী, এম্পি বা আমলাদের প্রাধান্য না দিয়ে সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে। এটি ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের জন্য স্বীকৃতি ও সন্মান প্রদর্শন। যেমন, গত বছর ১৬ ডিসেম্বর পিএসবি আহুত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন সাবেক সিনিয়র ও জনপ্রিয় ক্রিকেটার, জনাব রকিবুল হাসান।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ ২৮ মে পিএসবি’এর ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও ওয়ান পেজ বাংলা ব্লুজ-২০২২’এর বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক তুখোড় লেফট উইংগার, জনাব আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু। তাঁর হাতে পুরষ্কার বিতরণ, ঢাউস এক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী কেক কর্তন করে অনুষ্ঠান পর্ব শেষ হয়। পরে সমবেত অতিথিগণকে নাশতা ও কফি দিয়ে আপ্যায়িত করা হয়। আর কফি খেতে খেতে চুন্নু ভাইয়ের সাথে অনাষ্ঠানিক সান্ধ্য আড্ডায় মেতে উঠেন অতিথিদের কেউ কেউ। আড্ডাবাজ হিসাবে আমিও অংশগ্রহণ করি। চুন্নু ভাই আজ খুব প্রাণবন্ত ছিলেন ও তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের অনেক অজানা কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য আমাদের সাথে শেয়ার করেন। তাঁর অটোগ্রাফ নিতে আমি ভুল করিনি।

৫’ ১১” উচ্চতার আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু (জন্ম: ১ আগস্ট ১৯৫৬) হ’লেন একজন বাংলাদেশী সাবেক পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। চুন্নু তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের অধিকাংশ সময় ঢাকা আবাহনী এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে লেফট উইংএ একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ১৯৭৩ সালে, বাংলাদেশী ক্লাব দিলকুশার হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি তার জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন, যেখানে তিনি ১ মৌসুম অতিবাহিত করেছিলেন। অতঃপর ১৯৭৪ সালে তিনি রহমতগঞ্জে যোগদান করেছিলেন। রহমতগঞ্জেও তিনি মাত্র ১ মৌসুম অতিবাহিত করেছিলেন। সর্বশেষ ১৯৭৫–৭৬ মৌসুমে, তিনি রহমতগঞ্জ হ’তে ঢাকা আবাহনীতে যোগদান করেছিলেন; ঢাকা আবাহনীর হয়ে ১৪ মৌসুম খেলার পর তিনি ১৯৮৮ সালে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালে, চুন্নু বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিষেক করেছিলেন; বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর পর্যন্ত তিনি সর্বমোট ৫০ ম্যাচে ১৭টি গোল করেছিলেন। চুন্নু ১৯৯৬ সালে জাতীয় ফুটবলার হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার অর্জন করেছেন। আজকের আড্ডায় মনে হ’লো চুন্নু ভাই খুবই নিরহংকারী, বিনয়ী ও সদালাপী। খেলোয়াড়ী জীবনে চুন্নু ভাইয়ের একটি রেকর্ড হ’লো তিনি জীবনে কখনও কোন পেনাল্টি কিক মিস করেননি। অথচ, মেসি, রবার্তো ব্যাজিও, সক্রেটিসের মতো তারকা ফুটবলারদের পেনাল্টি মিসের রেকর্ড আছে।

২০২০ সালের ২৫ জুন এএফসির পক্ষ থেকে সাবেক তারকা ফুটবলার চুন্নুর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অসাধারণ কৃতিত্বকে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুকে তুলে ধরে। শুধু ফেসবুকই নয়, এএফসির পক্ষ থেকে চুন্নুর কৃতিত্বকে এএফসির টুইটার ও ইনস্টিগ্রামেও পোস্ট দেওয়া হয়। এএফসির পক্ষ থেকে চুন্নুর তিনটি অর্জনের কথা বলা হয়েছে।

প্রথমত: চুন্নু হলো সেই প্রথম বাংলাদেশী ফুটবলার যিনি ১৯৮০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এএফসি এশিয়ান কাপে প্রথম গোল করার কৃতিত্ব দেখান।

দ্বিতীয়ত: আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু ১৯৮৩ সালে প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপে জাতীয় দলের হয়ে নেপালের বিপক্ষে প্রথম হ্যাট্টিক করেন।

তৃতীয়ত: বাংলাদেশী ফুটবলার হিসেবে ১৯৮৫ সালের ৩০ মার্চ তিনি বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ভারতের বিপক্ষে প্রথম গোল করেন।

চুন্নুর প্রথম কীর্তির কথায় আসা যাক। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ কুয়েতে অনুষ্ঠিত ৭ম এএফসি এশিয়ান কাপের ফাইনাল পর্বে অংশগ্রহণ করে। এই প্রতিযোগিতায় গ্রুপ ‘এ’ তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল উত্তর কোরিয়া, সিরিয়া, ইরান এবং চীন। শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার সাথে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় কুয়েতের সাবাহ আল সালেম স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচে চুন্নু অসাধারণ এক গোল করেন।

তবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে চুন্নুর আরও এক কৃতিত্ব রয়েছে যা এখনও ক্রীড়ামোদীদের স্মৃতিপটে অক্ষত রয়েছে। ৮৫ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে প্রথম জয়ের দেখা পায়। এদিন ঢাকা স্টেডিয়ামে ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে ২-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে। প্রথমে বাংলাদেশই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছিল। ইন্দোনেশিয়ার বামবাং নুরদিয়ানসে ১১ মিনিটের সময় গোল করে দলকে এগিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৫ মিনিটের সময় কায়সার হামিদ বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম গোল করেন। কিন্তু ৬ মিনিট পরেই আসল চমকটা দেন চুন্নু। ৮১ মিনিটে চোখ ধাঁধানো ফ্রি কিকে জয়সূচক গোল করেন আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু। চুন্নুর করা এই গোলটিকে অনেকেই ব্যানানা শট বলে অভিহিত করেন। চুন্নুও মনে করেন মাঠের ডানপ্রান্ত দিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে করা সুইং শটের গোলটি এখনও ইতিহাস হয়ে আছে। এই গোলটি ফুটবলমোদীদের হ্নদয় থেকে মুছে যায়নি।

আজ সন্ধ্যায় চুন্নু ভাইয়ের সাথে আড্ডা সবে যখন জমে উঠেছে, তখনই বিদায় নিতে হ’লো। আমাকে আমন্ত্রণ করার জন্য পিএসবি কর্তৃপক্ষকে জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

Ali Mohammad Masud

Dhaka

28 May 2022